Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ইংল্যান্ডকে জেতাতে ধোনির নীলনকশা !

আহসান হাবীব সুমন/ক্রীড়ালোকঃ

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন , চিরশত্রুদের সেমিফাইনালের পথ আটকে দিতে এক বা একাধিক ম্যাচ হারবে ভারত ইচ্ছে করেই ! ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের গাঁ ছাড়া খেলায় ৩১ রানের হারের পর নতুন করে উঠেছে সেই বিতর্ক । আসলেই কি ইংল্যান্ড ম্যাচ খেলে জিতেছে ? নাকি স্বাগতিকদের সেমিতে উঠাবার লক্ষ্যে ম্যাচটি ছেঁড়ে দিয়েছে ? এই নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়ও চলছে তুমুল আলোচনা ।

রবিবার বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করা ইংল্যান্ড তোলে ৩৩৭ রান । জবাবে ভারতের লড়াই ছিল ৫ উইকেটে ৩০৬ রান তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ।

এবারের আসরের শুরু থেকে হট ফেভারিট ইংল্যান্ড একাধিক ম্যাচে হেরে বিপদে পড়ে গিয়েছিল । যাদের ধরা হচ্ছিল শিরোপার দাবীদার , তারাই সেমিতে ওঠার সম্ভাবনায় ছিল অনিশ্চিত । অন্যদিকে আসরের অপরাজিত দল হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেই সেমি নিশ্চিত হয়ে যেতো ভারতের । কিন্তু সেটা হয় নি । ভারতের হারে ইংল্যান্ডের সেমি ফাইনালে খেলার আশা এখন অনেকটাই জীবন্ত । আবার হেরে গেলেও ভারতের খুব বেশী ক্ষতি হয় নি । আগামী দুই ম্যাচে একটি জয় পেলেই বিরাট কোহলির দল উঠে যাবে শেষ চারে । ভারতের হারে বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান আর বাংলাদেশ ।

৩৩৮ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই ওপেনার লোকেশ রাহুলকে হারায় ভারত । কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার রোহিত শর্মা আর অধিনায়ক কোহলি ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ভালভাবেই । বিরাট কোহলি ৬৬ আর সেঞ্চুরি তুলে নেয়া রোহিতের আউটের সময়েও ভারত ছিল জয়ের পথেই ।

কিন্তু ৩৬.১ ওভারে দলীয় ১৯৮ রানে রোহিতের আউটের পরেই বদলে যায় পরিস্থিতি । শেষ ১৫ ওভারে ভারতকে রান তোলায় মনযোগী হতে দেখা যায় নি । এই সময় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রান তাড়ার তাড়াটা দেখা যায় নি সেভাবে ।

৭৬ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে কোহলি যখন সাজঘরে ফিরেছেন, ১৩০ বলে ভারতের দরকার ১৯২। ব্যাটিং সহায়ক পিচ, হাতে পর্যাপ্ত উইকেটও ৮টি ছিল। জয় পাওয়াটা অসম্ভব ছিল না একেবারে। কিন্তু শেষ ২০ ওভারে উইকেট হাতে রেখেই ঠুকে ঠুকে খেলল ভারত।

রোহিত শর্মা তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর দায়িত্ব শেষ করলেন। ১০৯ বলে ১৫ বাউন্ডারিতে ১০২ রানের ইনিংসটাকে তার ব্যাটিং সামর্থ্যের তুলনায় ধীরগতিরই বলা যায়।

শেষের দিকে মহেন্দ্র সিং ধোনি থাকলেও চেষ্টা যেন করেন নি জেতার । অথচ তিনি বরাবর বিশ্ব ক্রিকেটের ওয়েল ফিনিশার । কিন্তু কাল তাকে দেখা যায় কোন চেষ্টা করতে !

বিশেষ করে কেদার যাদব ফেরার পরে কী কারণে ৪৫ নম্বর ওভার থেকেই হঠাৎই সিঙ্গলস নেওয়ার রাস্তায় চলে গেলেন ধোনি আর কেদার, তার ব্যাখ্যা ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেও গোটা দেশের মতো খুঁজছে এজবাস্টনের গ্যালারি। 

হার্দিক ফেরার পরে পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৭১। ক্রিজে ধোনি, সঙ্গে আইপিএলে তাঁর চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা টিমমেট কেদার যাদব। আইপিএলের যুগে পাঁচ ওভারে ৭১ আকছার হয়ে থাকে। সেখানে রান তাড়া করে ফিনিশ দূরের কথা, বিগ শটই বেরোল না ধোনির ব্যাট থেকে। একই দোষে দোষী কেদারও। একটা ম্যাচে হারতেই পারে টিম, কিন্তু শেষ দিকে বিগ শট মারা অনীহায় বিরক্ত গ্যালারি আওয়াজ তুলল, ‘হায় হায় ধোনি!’ ক্রমাগত সিঙ্গলস নিয়ে নিয়ে ম্যাচকে মেরে ফেলার অর্থ কী, সেই প্রশ্নে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। 

তা হলে কি হার্দিক ফিরতেই ধোনি-কেদার ধরে নিয়েছিলেন, আর জেতার চেষ্টা করারই দরকার নেই? এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড ইনিংসে আছে ১৩টা ছক্কা, সেখানে ভারতের ৫০ ওভারে মাত্র একটা! সেটাও ম্যাচ একেবারে মরে যাওয়ার পরে শেষ ওভারে মেরেছেন ধোনি। 

পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, জেতার চেষ্টাটা থাকবে না কেন? হার্দিক (৩৩ বলে ৪৫) যতক্ষণ ছিলেন, ম্যাচে ভালো ভাবেই ছিল ভারত। কিন্তু তার পরেই ধোনি-কেদার জুটির ব্যাখ্যাহীন স্লো ব্যাটিং। 

এই নিয়ে এখন চারিদিকে চলছে সমালোচনা । স্বাগতিক দল হিসেবে ইংল্যান্ডের সেমিতে না থাকা আসরের জন্য বিপর্যয়ের । সেই হিসেবেই হয়ত ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংলিশদের কাছে হেরে গেছে ভারত !

এখনেই শেষ নয় । ম্যাচের শুরুতেও ধোনি করেছেন রহস্যজনক আচরণ । ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জেসন রয়ের ব্যাটের কানায় লেগেছিল বল। তালুবন্দি করেও বুঝতে পারেননি ধোনি। ডিআরএস চেয়েছিলেন বোলার হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু সায় দেননি মাহি ! 

২৫ বলে ২১ রানে খেলছিলেন জেসন রয়। হার্দিক পান্ডিয়ার একটি বল ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় ধোনির গ্লাভসে। আউটের আবেদন করেন পান্ডিয়া। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার আলিম দার। অধিনায়কের কাছে ডিআরএস চান হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু ধোনিও সম্মত হননি। ধোনি রাজি না হওয়ায় কথা বাড়াননি পান্ডিয়া-কোহলি। কিন্তু আলট্রাএজে স্পষ্ট হয়, বল জেসন রয়ের ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছে।

পরে দলের রানকে ১৬০-এ নিয়ে যান জেসন রয়। করেন, ৫৭ বলে ৬৬। রয়কে রান করতে দেয়ার জন্যই ধোনি এমন করেছেন , এটাও একটা সন্দেহের জায়গা । সব মিলিয়ে ভারতের এই হার পরকল্পিত কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন জাগেই ! 

এই মুহূর্তে সাত ম্যাচে ১১ পয়েন্ট পাওয়া ভারত আছে টেবিলের দুইয়ে । তাদের আগামী দুই ম্যাচ শ্রীলংকা আর বাংলাদেশের বিপক্ষে । যার মধ্যে একটি ম্যাচে জিতলেই ভারত নিশ্চিত চলে যাবে সেমিতে । আবার দুই ম্যাচ হারলেও শেষ হয়ে যাবে না তাদের সম্ভাবনা । পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে হেরে গেলে ভারতের কোন ম্যাচ না জিতলেও চলবে । সব মিলিয়ে ভারত আসলেই দারুণ সুবিধায় । আর সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের টেনে তুলতেই ভারত হেরেছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ।

বাস্তবতা হচ্ছে , বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের সেমিতে ওঠার যে স্বপ্ন, তা অনেকটাই কঠিন হয়ে গেলো ইংল্যান্ডের এই জয়ে। ৮ ম্যাচ শেষে ইংলিশদের অর্জন ১০ পয়েন্ট। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে আবারও তারা উঠে এলো ৪ নম্বরে। অন্যদিকে ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে বাংলাদেশ, ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বরে পাকিস্তান। ১১ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে ভারত আর নিউজিল্যান্ড রয়েছে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে।

আহাস/ক্রী/০০১